খেলে হাম জি জান সে আশুতোষ গোয়ারিকার প্রোডাকসন্-এর একটি হিন্দী চলচ্চিত্র। ছবিটি পরিচালনা করছেন আশুতোষ গোয়ারিকার এবং মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন অভিষেক বচ্চন ও দীপিকা পাডুকোন। মানিনী চ্যাটার্জী রচিত ডু অ্যান্ড ডাই উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটির
চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকার। এই উপন্যাসটির পটভূমি হল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন,১৯৩০।
চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকার। এই উপন্যাসটির পটভূমি হল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন,১৯৩০।
জেনে নিন সিনেমাটির পটভূমি ::
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন ছিল ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সংঘটিত সূর্য সেন-এর নেতৃত্বে কয়েকজন স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীর ব্রিটিশ পুলিশ ও সহায়ক বাহিনীর চট্টগ্রামে অবস্থিত অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রয়াস।অভিযান শুরু হয় ১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল, রাত দশটায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গণেশ ঘোষের নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী পুলিশ অস্ত্রাগারের এবং লোকনাথ বাউলের নেতৃত্বে দশজনের একটি দল সাহায্যকারী বাহিনীর অস্ত্রাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা গোলাবারুদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। বিপ্লবীরা সফলভাবে টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হন এবং রেল চলাচল বন্ধ করে দেন। ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখা - এই নামের অধীনে সর্বমোট ৬৫ জন বিপ্লবী এই বিপ্লবে অংশ নেন। সফল বিপ্লবের পর বিপ্লবী দলটি পুলিশ অস্ত্রাগারে সমবেত হন এবং সেখানে মাস্টারদা সূর্য সেনকে মিলিটারী স্যালুট প্রদান করা হয়। সূর্য সেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার ঘোষণা করেন। রাত ভোর হবার পূর্বেই বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম শহর ত্যাগ করেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে যাত্রা করেন।
পরিশেষ ::
আশুতোষ গোয়ারিকার পরিচালিত আগের চলচিত্র গুলো হচ্ছে লগান , যোধা আকবার ,স্বদেশ ইত্যাদি।যে সিনেমা গুলি ইতিহাস নির্ভর কিম্বা নিছক একজন মানুষের দেশের প্রতি ভালবাসার উপাখ্যান।লগান সিনেমার সেই বিখ্যাত ক্রিকেট খেলাটি দারুন নাড়া দিয়ে গিয়েছিল সব দেশের মানুষের মনে।এই সিনেমাটি অস্কার এর মনোনয়ন পেয়েছিল।এবারের সিনেমাটিতে মাস্টার দা সূর্য সেন এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিষেক বচ্চন বচ্চন,দেখার বিষয় মাস্টার দা সূর্য সেন এর চরিত্রটি কত টুকু তুলে ধরতে পেরেছেন অভিনেতা কিম্বা পরিচালক।
আশা করছি,ব্রিটিশ শাসিত সময়ে বাংলার পরিচয় বর্তমান প্রজন্মের মাঝে পরিচিত পারে।দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের চলচিত্রে এমন ইতিহাস নির্ভর চলচিত্র নেই বললে চলে,তাই অপেক্ষা করছি এই সিনেমাটি দেখার।
আগামী ৩রা ডিসেম্বর মুক্তি পাবে।
সূত্র ::
